প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 15, 2026 ইং
অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে আবাদি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে

অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে আবাদি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে কৃষিজমির পরিমাণ সংরক্ষণ এবং অকৃষি কাজে কৃষিজমির অননুমোদিত ব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়। কমিটির সভাপতি মো. আবদুস সালাম পিন্টু এমপির সভাপতিত্ব করেছেন। আলোচ্যসূচি অনুযায়ী বৈঠকের শুরুতে কমিটির সভাপতি, সদস্যরা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিচিতি পর্বে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ অধিদপ্তর এবং সংস্থাসমূহের কার্যাবলি সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জনবল ঘাটতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয় বিভিন্ন পদে বর্তমানে ৬৬৫৩ টি শূন্য পদ রয়েছে। এ বিষয়ে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে জনবল নিয়োগের কার্যক্রম বন্ধ করে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শূন্য পদসমূহ পূরণের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে খাদ্যে ভেজাল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিটির সদস্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপি বলেন, খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার অত্যন্ত সচেতন। এ লক্ষ্যে খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর নজরদারি এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিশু খাদ্যসহ সব খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ মাঠপর্যায়ে যাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে তার জন্য এ প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্টসহ শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিটি অফিসে মিনি ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং খাদ্যের ভেজাল মনিটরিং করার জন্য মোবাইল ভ্যান সরবরাহ করার কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) এবং খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডিলার নিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়। উক্ত নীতিমালা প্রণয়ন হলে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। জনগণের কাছে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে উপকারভোগী নির্ধারণে ত্রুটি যাতে না থাকে সে লক্ষ্যে উপকারভোগী নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া অনুসরণের সুপারিশ করেন তিনি। এছাড়াও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে তিনি কমিটির সদস্যদেরসহ সংশ্লিষ্ট সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
বৈঠকে কমিটির অন্যান্য সদস্যরা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি, আবুল কালাম এমপি, মো. আবু তালেব মন্ডল এমপি, মো. আব্দুল করিম এমপি এবং শামছুন্নাহার বেগম এমপি উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থাসমূহের প্রধানরা, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই ওয়েবসাইটের সকল ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা নিষেধ। উক্ত নিউজ পোর্টালটির নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।